আ.লীগ ভালো ছিল না, বিএনপিও খারাপ কাজ করছে : সালমান মুক্তাদির
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
রাজনীতি খারাপ কিছু নয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি খারাপ। এ দেশের রাজনীতিবিদরাও খারাপ। অনেকেই আবার বলবেন, তাহলে কি আগেই ভালো ছিলাম- না, আওয়ামী লীগও ভালো ছিল না। কিন্তু বিএনপিও খারাপ কাজ করছে। এমন মন্তব্য করেছেন গায়ক, অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারে থাকা বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতোই নিকৃষ্ট হতে না চায় বা তার চেয়েও খারাপ হতে না চায়, তাহলে তাদের অবশ্যই একটা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন, আপনাদের ব্র্যান্ডিং কী হবে সেটা ভাবেন। মধ্যবিত্তরা কিন্তু আপনার সরকারের প্রতি আর ভরসা রাখতে পারছে না।’
৫ অক্টোবর সোমবার এই টকশোতে একক অতিথি হিসেবে ছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের ডিজিটাল মিডিয়া অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ সালমান মুক্তাদির বর্তমানে সরকারের সঙ্গে একধরনের মুখোমুখি অবস্থানে আছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। তবে নিজে কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নন, রাজনৈতিক কোনো আকাঙ্ক্ষাও নেই, টকশোতে এমন দাবি করেন তিনি।
সদ্যই রাজধানী ঢাকার ইসিবি চত্বরে সালমানের 'ব্রাউনফিশ স্টুডিও' ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। পরদিন খোদ এর জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগকে ঢালাও বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এর পাল্টা জবাব আবার দেন সালমান মুক্তাদির।
চাঁদাবাজি নিয়ে ঢালাও মন্তব্য ঠিক হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসে সবার মুখে প্রথম তথ্যই পেয়েছিলাম- বিএনপি চাঁদাবাজ। এখন এটা তদন্ত করবে সরকার। এই দায়িত্ব তো আমার নয়।’
বাড়ি নিয়ে যে বিরোধ, তার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক না থাকার দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘একটি স্টুডিও করার জন্য যেমন বাড়ি দরকার, তেমন বাড়ি পেয়ে ভাড়া নিয়েছিলাম। এই বাড়ি যে বিরোধপূর্ণ, সেটা তো আগে জানতে পারিনি, জানার উপায়ও ছিল না। ঘটনার পর জানতে পারলাম।’
এদিকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের সব ব্যাংকিং লেনদেন তলব করেছিল। সেটা তারা পেয়ে গেছে, এটা নিশ্চিত করলেন তিনি নিজেই। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘তারা যতবার চাইবে, ততবার দিতেই আসলে বাধ্য ব্যাংকগুলো। কিন্তু এই ঘটনার পর তলব কেন? এখন হয়রানি কেন?’
এই সময়ের মধ্যে আবার তার শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন, যা সালমানকে চাপে রাখার একধরনের কৌশল মনে করছেন অনেকে। তবে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিবাদপত্রে সেই ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালমানের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম ও তার পরিবার মেনে নেননি। এ প্রসঙ্গে ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কখনো কথা হয়নি, দেখা হয়নি। আমার স্ত্রী মূলত সবকিছু ছেড়েছুড়ে দুই সন্তান নিয়ে আমার কাছে চলে এসেছে।’